দীর্ঘ ৪৭ বছর পর চট্টগ্রাম-৮ আসনে আওয়ামীলীগের জয়

প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

১৯৭৩ সাল থেকে ২০২০ সাল— দীর্ঘ এই ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য পেল চট্টগ্রাম ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের জনগণ। যদিও বা এই উপনির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা অনিয়ম কারচুপির সুষ্পষ্ট অভিযোগ ছিল। এরপর বড় কোন ধরনের সংঘাত ছাড়াই অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদ জয়ী হয়েছেন। সোমবার রাত ৮ টার পর চট্টগ্রাম নগরীর জিমনেশিয়াম হল রুমের নির্বাচনী পরিবেশন কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার নৌকার টিকিট নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে অনেকবার এমপি নির্বাচিত হলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।চট্টগ্রাম ৮ আসনের মোট ১৭০টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৯২২ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪ জন। মোট ১৭০ কেন্দ্রের ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ ভোটের মধ্যে ভোট গ্রহণ হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮১। শতকরা হিসেবে মোট ভোট গ্রহণ হয়েছে ২২ দশমিক ৯৪ ভাগ। এর মধ্যে নৌকা পেয়েছে ৮৭ হাজার ২৪৬ ভোট আর ধানের শীষ পেয়েছে ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। মোছলেম উদ্দিন নৌকা প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের আবু সুফিয়ানের থেকে ৬৯ হাজার ৩১১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে নগরীর ১০১ কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৫ ভোট। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৪৯ হাজার ৫৯। তার মধ্যে নৌকা প্রতীকের মোছলেম উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২২৯ আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৩১ ভোট।

অন্যদিকে বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৯৩ ভোটের মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৫৯ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৫১ হাজার ১৭ ভোট ও ধানের শীষ পেয়েছে ৬ হাজার ৫০৪ ভোট।

এদিকে টেলিভিশন প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ১৮৫ ভোট। কুঁড়েঘর পেয়েছে ৬৫৬। আপেল ৫৬৭ ভোট এবং চেয়ার পেয়েছে ৯৯২ ভোট।

এই উপনির্বাচন নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান দুপুরের পর থেকে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন দাবি করেছেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের সহায়তায় নৌকার কর্মীরা একটি প্রহসনের ভোট চুরির নির্বাচন করছে। নির্বাচনের নামে জাতির সাথে তামাশার আয়োজনে জাতি লজ্জিত ও হতাশ। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এমনে (এমনিতেই) জাতির আস্থা নেই। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।