সিলেটে বিতর্কিত আযহারীর সকল ওয়াজে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

বির্তকিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আযহারীকে সিলেটে নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তার সকল ওয়াজ মাহফিলের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বৈঠকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার জনপ্রতিনিধি, আলেম ও রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২০ জানুয়ারি সিলেটের তিনটি স্থানে ওয়াজ মাহফিলে মিজানুর রহমান আযহারীর বয়ান করার কথা ছিলো। এরমধ্যে একটি কানাইঘাটের মুকিগঞ্জ বাজার জামেয়া মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। তবে এই মঙ্গলবার বিতর্কিত এই বক্তাকে কানাইঘাটে প্রতিহত করার ডাক দেন স্থানীয় আলেমদের একটি অংশ। এনিয়ে উপজেলার আলিয়া ও কওমিপন্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ওই দিন জৈন্তাপুরের দরবস্তের হাজারী সেনাগ্রাম মাঠে ও সিলেটের ওসমানীনগরসহ ৩টি মাহফিলে আযহারীর বয়ান রাখার কথা ছিল। জৈন্তাপুরের তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে পোস্টারিং করা হয়। এনিয়ে মঙ্গলবার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আযাহারী যুদ্ধাপরাধের দায়েো দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষেও অনেক ওয়াজে বক্তব্য রাখেন বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, কানা্ইঘাটে আযহারীকে প্রতিরোধের ডাকের প্রেক্ষিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকেল ৩ টায় জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম সিলেটের আলেম সমাজ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে মিজানুর রহমান আযহারীর বিভিন্ন বিতর্কিত ওয়াজ নিয়ে আলোচনা করা হয়। হযরত আলী (রা.) মদ খেয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বিবি খাদিজা (রা.) তালাকপ্রাপ্ত, নবী (স.) এর শরীর ৬ প্যাক ছিল, এধরণের বিতর্কিত ওয়াজ করায় আলেম সমাজে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সভায় আলেমগণ বলেন, এরকম ওয়াজ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যেহেতু তার বয়ান বিতর্ক তৈরী করছে, সুতরাং সিলেটে কোন মাহফিলে আযহারী উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে সিলেটে কোন ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে প্রথমে। কেবল প্রশাসন অনুমতি দিলে সিলেটে তিনি ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করতে পারবেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ, হেমু দারুল উলুম মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান, দরবস্ত মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর লাম্নিগ্রাম মাদ্রাশার মুহতামিম আব্দুল জব্বার, হরিপুর মাদ্রাশার শায়খুল হাদিছ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলা উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, উপদপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, কানাইঘাট উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাকের, কানাইঘাট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ। এছাড়া জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।