কমলগঞ্জের শমশেরনগর তালামীয সভাপতিকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শমশেরনগর ইউনিয়ন তালামীয়ে ইসলামিয়ার সভাপতি সাইফুল ইসলাম সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্’র সহযোগি সংগঠন তালামীযে ইসলামিয়ার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কালীপুরের একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ঘটনাস্থল থেকে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালীপুরের ওয়াজ মাহফিলের পাশে সাইফুল ইসলামের নানা বাড়িতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাইফুল তার পরিবারের অপর সদস্যসহ মিলাদ মাহফিলের দাওয়াতে শরীক হন। এসময় ওয়াজ মাহফিলের পাশে বসা মেলার মাঠে ছোট ভাই শিহাবের সাথে কতিপয় ছেলেদের সাথে একটু মনোমালিন্য হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান এবং সাইফুল তা মিটমাট করে দেন। পরে রাত প্রায় বারোটার সময় সাইফুল ইসলাম বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে ৪০/৫০ জন লোক তাকে আক্রমণ করে ছুরি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার ভোর সাড়ে চারটায় সাইফুল ইসলামের অপারেশন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী অপারেশন শেষে তাকে চার ঘন্টার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং ওই সময়ের মধ্যে তার জ্ঞান ফিরে আসলে পরীক্ষা করে আবার ২য় বার অপারেশন করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনাটির বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ওয়াজ মাহফিলের পাশের কোন এক জায়গায় কথা কাটাকাটি নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে শুনেছি। এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আল ইসলাহ এর শমশেরনগর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

উক্ত বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন।